প্রতিবন্ধী ভাতা অনলাইন আবেদন ২০২৬: কি কি লাগবে ও কিভাবে আবেদন করবেন

প্রতিবন্ধী ভাতা ২০২৬ অনলাইন আবেদন করার নিয়ম আবেদনের শর্ত ও প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত তথ্য।

প্রতিবন্ধী ভাতা অনলাইন আবেদন

এখন খুব সহজেই মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন করা যায়। আবেদন যাচাই বাছাইয়ের পর সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টে ভাতা দেয়া হয়। তাই ঘরে বসেই এখন প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণ করা যাবে।

আপনার পরিবারের কোন সদস্যের জন্য বা পরিচিত কারো জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা অনলাইন আবেদন করতে পারবেন। কিভাবে আবেদন করবেন, কি কি লাগবে বিস্তারিত প্রক্রিয়া শেয়ার করলাম।

বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতার অর্থ G2P পদ্ধতিতে পরিশােধের জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ ও যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রতিবন্ধী ভাতা মোবাইলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে।

প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদনের যোগ্যতা

  1. সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে
  2. প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ অনুযায়ী সমাজসেবা কার্যালয় হতে নিবন্ধন ও প্রতিবন্ধিতার পরিচয় পত্র (DIS Number) গ্রহণ করতে হবে।
  3. প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যে জেলার স্থায়ী বাসিন্দা সে জেলা হতে নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র নিতে হবে
  4. মাথাপিছু বার্ষিক আয় ৩৬,০০০ (ছত্রিশ হাজার) টাকার উর্ধে নয় এমন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণ আবেদন করতে পারবেন।
  5. আবেদনকারীকে অবশ্যই দুঃস্থ প্রতিবন্ধী হতে হবে।
  6. ৬ (ছয়) বছরের উর্ধে সকল ধরণের প্রতিবন্ধীকে ভাতা প্রদানের জন্য বিবেচনায় নিতে হবে।
  7. বাছাই কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত হতে হবে।

প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপ্তির অযোগ্যতা

  1. সরকারি কর্মচারী হলে কিংবা সরকারি কর্মচারী হিসেবে পেনশনভোগী হলে
  2. অন্য কোনভাবে নিয়মিত সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত হলে
  3. কোন বেসরকারি সংস্থা/সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হতে নিয়মিতভাবে আর্থিক অনুদানপ্রাপ্ত হলে।

প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার নিয়ম

প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার জন্য উপরোক্ত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করলে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে সঠিকভাবে আবেদন করার পর, আবেদনের প্রিন্ট কপিতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বা পৌরসভার কাউন্সিলরের স্বাক্ষর নিয়ে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।

আবেদনটি যাচাই বাছাইয়ের পর ভাতাভোগী হিসেবে নির্বাচন করা হলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতার টাকা পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন:

বিভিন্ন ভাতার আপডেট তথ্য পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজ Follow করুনInfoGovt

প্রতিবন্ধী ভাতা অনলাইন আবেদন কখন শুরু হয়?

প্রতিবন্ধী ভাতার অনলাইন আবেদন সাধারণত প্রতি বছর অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়ে নভেম্বরে শেষ হয়। অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করার সময়সীমা ১ মাস পর্যন্ত থাকে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শীগ্রই শুরু হবে।

প্রতিবন্ধী ভাতা অনলাইন আবেদন করতে যা লাগবে

অনলাইন আবেদনের জন্য যে সকল কাগজপত্র প্রয়োজন,

  1. জাতীয় পরিচয় পত্র (১৮ বছরের উর্দ্ধে)/ জন্ম নিবন্ধন (১৮ বছরের নীচে হলে )
  2. প্রতিবন্ধী পরিচয় পত্র (সুবর্ণ নাগরিক কার্ড)
  3. ১টি সক্রিয় মোবাইল নম্বর (নগদ/ বিকাশ সহ)

প্রতিবন্ধী ভাতা অনলাইন আবেদন করার নিয়ম

অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন,

  1. সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভাতা আবেদন ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম পূরণ করুন।
  2. জাতীয় পরিচয় পত্র বা জন্ম নিবন্ধন ও সুবর্ন নাগরিক কার্ড দিয়ে আবেদন করার পর প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন ফরম ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে নিন।
  3. স্থানীয় চেয়ারম্যান, পৌরসভার কাউন্সিলরের স্বাক্ষর নিয়ে সমাজসেবা মাঠকর্মী বা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমা দিন।

প্রতিবন্ধী ভাতার অনলাইন আবেদন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার ‍উভয় থেকেই করতে পারবেন। আবেদন করার আগে পুরো নিয়মটি আগে পড়ে নিন। কি কি তথ্য প্রয়োজন হবে তা সংগ্রহ করে নিন তারপর আবার এই পোস্টটি দেখে আবেদন পূরণ করলে ভাল হবে।

মাঝেমধ্যে কারিগরি কারণে বা  সিস্টেম আপডেটের জন্য আবেদনের ওয়েবসাইটটি বন্ধ থাকতে পারে। “সিস্টেম উন্নয়নের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত” এই লেখাটি ওয়েবসাইটে দেখা যায়।

আবার আবেদনের একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। যখন নতুন আবেদন গ্রহণ করা হয় তখনি ওয়েবসাইটে আবেদন করা যাবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন করার বিস্তারিত প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে নিচে দেখানো হল।

ধাপ ১ঃ অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ

সমাজসেবার ভাতার আবেদনের ওয়েবসাইটের http://mis.bhata.gov.bd/onlineApplication লিংকে ক্লিক করে Google Chrome থেকে এই সাইটে যান। নিচের ছবির মতো একটি পেজ ওপেন হবে। এখানে আমি বুঝেছি, পরবর্তী ধাপে যান এই লেখার আগে টিক দিকে এ বাটনে ক্লিক করুন।

তারপর কার্যক্রম অপশনে প্রতিবন্ধী ভাতা সিলেক্ট করুন।

এখানে ডিআইএস নং ও জন্ম তারিখ দিয়ে যাচাই করতে হবে। DIS নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে তথ্য পাওয়া না গেলে আবেদন করা যাবে না।

এখানে প্রথম বক্সে যার আবেদন করবেন তার ডিআইএস নম্বর লিখুন ও দ্বিতীয় বক্সে তার জন্ম তারিখ সিলেক্ট করে ‘ডিআইএস আইডি যাচাই করুন‘ বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৩ঃ এনআইডি কার্ড থেকে ছবিসহ আবেদনকারীর কিছু তথ্য স্বয়ংক্রীয়ভাবে পূরণ হয়ে যাবে। এখান থেকে যেই তথ্য অটোমেটিক পূরণ হবে না সেগুলো নিজে সঠিকভাবে পূরণ করে নিবেন।

ধাপ ৪ঃ এই ধাপে আবেদনকারী সম্পর্কে কিছু অতিরিক্ত তথ্য দিতে হবে। তথ্যগুলো হলো,

  • বৈবাহিক অবস্থা
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা
  • পরিবারের সদস্য সংখ্যা (পুরুষ, মহিলা ও হিজড়া)
  • পেশা
  • বার্ষিক আয়
  • স্বাস্থ্যগত বা কর্মক্ষমতা সংক্রান্ত তথ্য
  • সরকারি বা বেসরকারি আর্থিক সুবিধার তথ্য
  • বাসস্থান তথ্য
  • ভূমির পরিমাণ
  • প্রতিবন্ধীর ধরণ ডিআইএস অনুযায়ী
  • প্রতিবন্ধীর মাত্রা ডিআইএস অনুযায়ী

ধাপ ৫ঃ এই ধাপে যোগাযোগের তথ্য দিতে হবে। আবেদনের ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, মোবাইল নম্বরটি কার সেটি সিলেক্ট করুন, ইমেইল (যদি থাকে) পূরণ করুন।

সব তথ্য পূরণ করা হলে একবার সব তথ্যগুলো চেক করে দেখুন কোন তথ্যে ভুল আছে কিনা। সব ঠিক থাকলে সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক করে আবেদনটি জমা দিন।

মনে রাখবেন আবেদন জমা দেয়ার পর আর কোন তথ্য পরিবর্তন করার কোন সুযোগ নেই।

ধাপ ৬ঃ আবেদন সাবমিট করা হলে, প্রিন্ট করার অপশন পাবেন। এখানে প্রিন্ট বাটনে ক্লিক করে প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদনটি PDF ফাইলে ডাউনলোড করে নিন।

নিজের প্রিন্টার না থাকলে এলাকার কোন কম্পিউটার সেবার দোকান থেকে ফরমটি প্রিন্ট করিয়ে নিন।

প্রতিবন্ধী ভাতা অনলাইন আবেদন ফরম প্রিন্ট

ধাপ ৭ঃ এরপর প্রিন্ট করা ফরমটির নির্দিষ্ট অংশে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা পৌরসভার কাউন্সিলরের স্বাক্ষর নিয়ে সমাজসেবা মাঠকর্মী বা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমা দিন।

প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা ২০২৬

২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই ভাতার পরিমাণ প্রতি মাসে ৯০০ টাকা দেয়া হয়েছে। সাধারণত, এই ভাতা তিন মাস অন্তর প্রদান করা হয়, অর্থাৎ প্রতি কিস্তিতে ২৭০০ টাকা করে বছরে মোট চারবার বিতরণ করা হয়। ভাতার টাকা প্রতি মাসে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা যেমন, বিকাশ, নগদের মাধ্যমে ভাতা গ্রহণ করা যাবে।

প্রতিবন্ধী ভাতা কবে দিবে 2026

প্রতিবন্ধী ভাতার নতুন আবেদন শুরু হবে ১ আগস্ট থেকে এবং আবেদন শেষ হতে ৩১ আগস্ট। ভাতার আবেদনকারীর তালিকা চুড়ান্ত হলে, প্রতি ৩ মাস পর পর ভাতার টাকা দেয়া হবে।

আবেদনের শর্তাবলী

যারা ইতোমধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, হিজড়া জনগোষ্ঠীর বিশেষ ভাতা, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর বিশেষ ভাতা, বেদে জনগোষ্ঠীর বিশেষ ভাতা, হিজড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা উপবৃত্তি, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিক্ষা উপবৃত্তি, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি, বেদে জনগোষ্ঠীর শিক্ষা উপবৃত্তি, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ভাতা পাচ্ছেন তাদের পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

এছাড়া একজন ব্যক্তি একাধিকবার আবেদন করতে পারবেনা। অন্যথায় আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।

শেষকথা

প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন যখন তখন করা যাবে না। সাধারণত আগস্টের শুরুতেই এই তালিকা প্রণয়নের কাজ করা হয়। তাই খেয়াল রাখুন কখন প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।

ওই নির্দিষ্ট সময়েই প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন করে, চেয়ারম্যান বা পৌরসভা কাউন্সিলরেরস স্বাক্ষর নিয়ে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিন।

প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন নিয়ে কোন প্রশ্ন? নিচের প্রশ্নের উত্তরগুলো দেখুন। উত্তর না পেলে অবশ্যই কমেন্টে আপনার প্রশ্ন করুন।

প্রতিবন্ধী ভাতা নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর

জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন ও সুবর্ন কার্ড তথ্য দিয়ে অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতা পাওয়া যাবে।

প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ মাসিক ৮৫০ টাকা।

প্রতিবন্ধী ভাতা প্রতি তিন মাস পর পর দেয়া হয়।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা অভিভাবক প্রতিবন্ধীতা তথ্য সিস্টেম ওয়েবসাইট www.dis.gov.bd ভিজিট করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। তারপর ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট তারিখে হাজির হতে হবে। ডাক্তারী যাচাই সাপেক্ষে প্রতিবন্ধী হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার পর প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।

পরামর্শ: প্রতিবন্ধী আইডি কার্ড ও ভাতার বিষয়ে যে কোন প্রশ্ন বা অভিযোগ থাকলে, আপনার উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের সাথে যোগাযোগ করুন।

Leave a Reply