৯ম জাতীয় পে কমিশন ২০২৫ গঠন করল অর্থ মন্ত্রণালয়

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের জন্য নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

৯ম জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫

সাবেক অর্থসচিব ও বিশ্বব্যাংকের বিকল্প পরিচালক জাকির আহমেদ খান-কে জাতীয় পে কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

হাইলাইটস:

  • কমিশনের মেয়াদ: ৬ মাস
  • মূল দায়িত্ব: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন
  • প্রতিবেদন জমাদানের সময়: ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে

গত বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের অষ্টম বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, যা বর্তমান বাজারদর ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কে কে আছেন ৯ম জাতীয় পে কমিশনে?

নবম জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫: সদস্য তালিকা

পদবিনামপূর্বের পদ/প্রতিষ্ঠান
সভাপতি (পূর্ণকালীন)জাকির আহমেদ খানসাবেক অর্থ সচিব, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প পরিচালক
সদস্য (পূর্ণকালীন)ড. মোহাম্মদ আলী খানসাবেক সচিব
মো. মোসলেম উদ্দীনসাবেক মহানিয়ন্ত্রক
মো. ফজলুল করিমসাবেক রাষ্ট্রদূত
সদস্য (খণ্ডকালীন)আহমেদ আতাউল হাকিমসাবেক মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইনসাবেক সরকারি কর্মকর্তা
ড. জিশান আরা আরাফুন্নেসাসাবেক সচিব
মেজর জেনারেল (অব.) এ.আই.এম. মোস্তফা রেজা নূরসেনাবাহিনীর সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা
ড. মো. হাবিবুর রহমানসাবেক ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক
তহমিনা বেগমবিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ
অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকারচেয়ারম্যান, একাউন্টিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ড. মোহাম্মদ সামছুল আলম ভূঁঞাপ্রফেসর, এনিমেল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ড. এ.কে.এম. মাসুদঅধ্যাপক, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বুয়েট
অধ্যাপক সৈয়দ আতিকুল হকসাবেক চেয়ারম্যান, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
অধ্যাপক এ. কে. এনামুল হকসাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (BIDS)
প্রতিনিধি সদস্যসশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিপ্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত
আইন ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধি
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি
জননিরাপত্তা বিভাগের প্রতিনিধি
ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (ICAB)-এর প্রেসিডেন্ট
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FBCCI)-এর প্রেসিডেন্ট
অতিরিক্ত সচিব (প্রবিধি, বাস্তবায়ন, আইন ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান)
অতিরিক্ত সচিব (বাস্তবায়ন), অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়
সরকারের সচিব/অতিরিক্ত সচিব

সূত্র: অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন

সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান বেতন কাঠামো

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ২০টি গ্রেড রয়েছে:

  • ১ম থেকে ৯ম গ্রেড: প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা (ক্যাডার ও নন-ক্যাডার)
  • ১০ম থেকে ১২তম গ্রেড: দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারী
  • ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেড: তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী
  • ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেড: চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী

সর্বোচ্চ গ্রেডের (১ম গ্রেড) বেতন ৭৮,০০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন গ্রেডের (২০তম গ্রেড) বেতন ৮,২৫০ টাকা। সরকারি চাকরিতে মোট ১৯ লাখ ১৯ হাজার ১১১টি পদ থাকলেও বর্তমানে ১৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।

বেতন ভাতা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের দাবি কি?

দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনগুলো নতুন বেতন কাঠামো ও মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিল। বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবীর বলেন, “২০টি গ্রেড কমিয়ে ১২টিতে নামিয়ে আনা হোক, যাতে বেতনবৈষম্য কমে। বর্তমান বেতনে নিম্নআয়ের কর্মচারীরা জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।”

উল্লেখ্য, গত দুই বছরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত কর্মচারীদের প্রকৃত আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বিশেষ করে বেসরকারি বাসায় ভাড়া থাকা কর্মচারীদের জীবনযাত্রা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরকারের প্রস্তুতি ও বাজেট বরাদ্দ

গত নভেম্বরে মহার্ঘ ভাতা প্রদানের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হলেও অর্থসংকটের কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার জন্য ৮৪,৬৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২,০৭৭ কোটি টাকা বেশি।

কমিশনের কার্যক্রম ও প্রত্যাশা

নবগঠিত কমিশন বর্তমান বেতন কাঠামো, মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে সুপারিশ প্রস্তুত করবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান জানান, “এই প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ, তবে আমরা কর্মচারীদের স্বার্থ বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে সমাধান চাই।”

কমিশন শিগগিরই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ট্রেড ইউনিয়ন ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে। নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে কার্যকর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply